গান-গল্প-কবিতা-নাটক। বাঙালির জীবনে জ্যোতিষ্কের স্থানটি আজও ধরে রেখেছেন রবীন্দ্রনাথ। তবে তাঁকে নিয়ে ভারত-বাংলাদেশই শুধু মাতেনি, বিশ্বের বহু দেশই রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছে নানা ভাবে। সাহিত্যের পরিধির বাইরে, কখনও মুদ্রায় কখনও আবার ডাকটিকিটে রবীন্দ্রনাথকে তুলে ধরতে চেয়েছেন তাঁরা বিশ্ববাসীর সামনে। এমনই কিছু তথ্যকে সামনে রেখে এই লেখা।
রবিঠাকুরের ১৫০ তম জন্মবার্ষিকীতে ভারত ও বাংলাদেশের সরকার তাঁর নামে মুদ্রা প্রচলন করেছিল। বাংলাদেশের মুদ্রাটি ছিল ১০ টাকার। কয়েনটি রুপোর। জার্মানিতে প্রিন্ট করা। মুদ্রাতে বাংলা ভাষায় রবীন্দ্রনাথের সই ছিল। ভারত সরকার তার নামে দু’টি মুদ্রার প্রকাশ করে। এর একটি পাঁচ টাকার মুদ্রা। ব্রোঞ্জের তৈরি। সোনালি রঙের। মুম্বই, কলকাতা, হায়দ্রাবাদ ও নয়ডার মিন্ট থেকে এটি তৈরি করা হয়েছিল। মুদ্রাটি এখনও সাধারণ মানুষের হাতে হাতে ঘোরে।
১৫০ টাকার আর একটি মুদ্রা তৈরি করা হয় কলকাতার মিন্ট থেকে। যেহেতু ১৫০ টাকা মূল্যের কোনও মুদ্রা বাজারে প্রচলিত নয়, তাই এই মুদ্রাটি সর্বসাধারণের জন্য নয়। এককথায় বলা চলে, নন- সার্কুলেটেড। তবে তা সংগ্রহের জন্য আবেদন করলে আগ্রহীরা পেতে পারেন। অবশ্য মুদ্রাটি সংগ্রহ করতে চার হাজার টাকা ব্যয় করতে হবে।
ভারতই শুধু নয়, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বিভিন্ন দেশ নানা সময়ে ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে। ভারতীয় ডাকবিভাগ ও টেলিগ্রাফের যৌথ প্রয়াসে ১৯৫২ সালের ১ অক্টোবর একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়েছিল। মূল্য ছিল বারো আনা। যাতে ছয়জন ধার্মিক কবির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ স্থান পান। ১৯৬১ সালের ৭ মে, সত্যজিৎ রায়ের আঁকা রবি ঠাকুরের প্রতিকৃতির একটি ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী কার্ড প্রকাশ করে ভারতীয় ডাকবিভাগ। পরে ‘ডাকঘর’ গল্পটি নিয়েও ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়। রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা নিয়েও প্রকাশিত হয়েছিল ডাকটিকিট। সেটা ১৯৭৮ সাল। এনিয়ে সংসদে প্রশ্নও তুলেছিলেন তৎকালীন সাংসদ জ্যোতির্ময় বসু। বিশ্বভারতীয় স্বর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৯৭১ সালের ২৪ ডিসেম্বর কুড়ি পয়সা মূল্যের একটি ডাকটিকিট ইস্যু করা হয়। সেটিতে রবীন্দ্রনাথ ও বিশ্বভারতীর মূল ক্যাম্পাসের ছবি ছাপা হয়েছিল।
১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরে, নোবেল জয়ের ৬০তম বর্ষে সুইডিশ সরকার রবি ঠাকুরের নামে ডাকটিকিট প্রকাশ করেছিল। সেই সঙ্গে আরও তিন নোবেল জয়ীর নামে ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়।
রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লবের পর সেখানকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতিতে মুগ্ধ হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ‘রাশিয়ার চিঠি’-তে তা প্রকাশও করেছিলেন। রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করেছিল রাশিয়া।
ভিক্টোরিয়া ওকম্পো আর্জেন্টিনার একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক। তাঁর আঁকা রবি ঠাকুরের ছবি দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ১৩ মে ১৯৬১ সালে আর্জেন্টিনা সরকার রবিঠাকুরের নামে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে। সেই বছরেই ব্রাজিল সরকার রবি ঠাকুরের ১৫০ তম জন্মবার্ষিকীতে রোমানিয়া সরকার তাঁর স্মৃতির উদ্দেশে খাম ও ডাকটিকিট প্রকাশ করেছিল। সে বছর ব্রিটেনও তাঁর নামে ডাকটিকিটের একটা সেট প্রকাশ করে। বাংলাদেশের সরকার রবীন্দ্রনাথের স্মৃতির উদ্দেশে বেশ কিছু স্ট্যাম্প প্রকাশ করেছে। তাতে রবি ঠাকুরের প্রিয় জায়গা `শিলাইদহের ছবিও যুক্ত হয়েছে।
আজ পঁচিশে বৈশাখ ‘বালিহাঁস’ এর ডানা শোভিত হয়েছে সাহিত্যিক রেজাউল করিম এর ‘দেশ, বিদেশে মুদ্রা, ডাকটিকিটেও রবীন্দ্রনাথ’ রচনায়। বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধা এ এক যথোচিত শ্রদ্ধা নিবেদন।
ধন্যবাদ দাদা
[…] দেশ-বিদেশে মুদ্রা,ডাকটিকিটেও রবীন্দ্… বকুল আর বেলফুলের মালা, প্রথম জন্মদিন পালন রবির Share WhatsApp Facebook Telegram Twitter Google+ Pinterest Linkedin Previous articleঅসংখ্য পুরাতাত্ত্বিক সামগ্রী মিলেছে সুন্দরবনে সঞ্জয় গুপ্তhttps://balihas.com/ […]