জনেশ ভট্টাচার্য

(চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতা ছাড়াও বিভিন্ন বইপত্র থেকে আমরা জানতে পারি চোদ্দশাকের যথাযথ গুণাবলী। এই সব শাকপাতার প্রাণপ্রাচুর্য অসীম। লিখেছেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রবীণ সম্প্রসারণ সংগঠক জনেশ ভট্টাচার্য।)



বাংলার লোকসংস্কৃতিতে দীপান্বিতা অমাবস্যার আগের দিন চোদ্দশাক খাওয়ার রেওয়াজ আজও রয়েছে। এই সব শাক একক ভাবে বা সম্মিলিত ভাবে নানা রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা রাখে। জেনে নেওয়া যাক, চোদ্দ শাকের তালিকায় কোন কোন শাককে রাখা হয়েছে, আলাদা আলাদা ভাবে এগুলির গুণাগুণই বা কী।


চোদ্দ শাকের মধ্যে রাখা হয় ওল, কেঁউ, বেতো, কালকাসুন্দে, সরিষা, নিম, জয়ন্তী শালিঞ্চ (শাঞ্চে), গুড়ুচী (গুলঞ্চ পাতা), পটুক (পটল পত্র), শেলু, হিলমোচিকা (হিঞ্চে), ভন্টাকী (ঘেঁটু বা ভাঁট), সুনিষণ্ণক (সুষুনী)-র মতো শাকগুলিকে।

এবার এদের প্রতিটির ওষুধি গুণাগুণ আলাদা ভাবে দেখা যাক—
১। ওল— অর্শ রোগের ওষুধ
২। কেঁউ— কৃমি দূর করে
৩। বেতো— লিভারে উপকারী, অর্শ, রক্তপিত্তনাশক
৪। কালকাসুন্দে— কাশিতে উপকারী
৫। সরিষা— মলমূত্র সহজ করায়
৬। নিম— পিত্তজ চর্মরোগে উপকারী
৭। জয়ন্তী— তরুণ সর্দিতে উপকারী
৮। শালিঞ্চ (শাঞ্চে)— প্লীহার ওষুধ, অর্শ দূর করে
৯। গুডুচী (গুলঞ্চ পাতা)— বায়ুবিকার দূর করে
১০। পটুক (পটল পাতা)— পিত্তদোষ দূর করে, কাশ, জ্বর, কৃমিতে উপকারী
১১। শেলু— ক্ষুধা বর্ধক ও রুচিকারক
১২। হিলমোচিকা (হিঞ্চে)— শোথ, কফ, কুষ্ঠ, পিত্তনাশক
১৩। ভন্টাকী (ঘেঁটু বা ভাঁট)— কৃমি দমন করে
১৪। সুনিষণ্ণক (সুষুনী শাক )— স্নায়ুতন্ত্রকে স্নিগ্ধ করে ঘুম আনে, মেহ,দাহ, জ্বর, কুষ্ঠ, ত্রিদোষ নাশক

এই ১৪ টি শাক একক ভাবে বা সম্মিলিত ভাবে নানা রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা রাখে। সে দিক থেকে দেখতে গেলে, আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু শাক পরিমাণ মতো গ্রহণ করা উচিত।